দীঘার রুপোলি সৌন্দর্য মনের অ্যালবামে বাস্তব ছবি
দীঘার রুপোলি সৌন্দর্য মনের অ্যালবামে বাস্তব ছবি :-
সুনন্দা বিশ্বাস :-
বাঙালি মাছে ভাতে থাকে। সে পুকুরের মিষ্টি জলের মাছ হোক, আর সমুদ্রের নোনা জলের মাছ হোক। বাঙালির পাতে মাছ চায়।
সে এক নতুন অভিজ্ঞতা!- রুপালি মাছের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় দীঘার মোহনাতে।
আমরা প্রায় সবাই জানি যে "চম্পা নদীর মোহনা" দীঘার মোহনা নামে পরিচিত। সত্যি দর্শনার্থীদের জন্য একটি আশ্চর্যের!- একদিকে চম্পানদী এবং অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর।
এখানে যারা ট্রলারে করে মাছ ধোরতে যায়, তারা কয়েকদিন পর ফিরে আসে রুপোলি মাছের ভীড় নিয়ে! এবং দীঘার মোহনার মাছ বাজারে তাদের ধরা মাছ নিলামে তোলে । সর্বোচ্চ দরদাতা সেই মাছ পায়। এই বাজারটি "দীঘা ফিশারমেন্ট এন্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন" দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এখানে মোটামুটি ১৪৫ টি ফিশ নিলাম পয়েন্ট আছে।
এই মোহনার বাজারে সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ মাছের মধ্যে আছে ব্ল্যাক পোমপ্লেট, সিলভার পোমপ্লেট , চাইনিজ পোমপ্লেট , সুন্দরী রানী পোমপ্লেট, সুস্বাদু ইলিশ রাজত্ব করে। এছাড়া চিংড়ির মধ্যে ,- সাগরি ও বাঘ, সাদা চিংড়ি,বাদামি চিংড়ি,গভীর সমুদ্রের চিংড়ি, কারি কারি চিংড়ি,ফুলের বাঘ। এছাড়া ঈল,কাঁকড়া,বিড়াল মাছ, কাটল ফিশ, স্কুইড, ব্লু আই টুনা, হলুদ ফিন টুনা, এবং বম্বেডাক, বাউল মাছ, বাস পাতা মাছ, বৃহৎ শঙ্কর মাছ, হাল মাছ, এছাড়া আরো কত মাছ যার নাম সব জানা সম্ভব হয়নি।
এখান থেকে ধরা মাছের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে ৮০ শতাংশ বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ঠিক সেই জন্য এই স্থানটি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ অর্জন করে। সত্যি কথা বলতে মাঝে কিছু নগণ্য অংশ স্থানীয় ভাবে বিক্রি হয়।
অনেকেরই জানা আজ যে স্থান দীঘা নামে পরিচিত বা যে স্থানে দীঘা অবস্থিত,- তার পূর্বের নাম ছিল "বীরকুল"। ব্রিটিশ নথিপত্রে এর বিশেষ উল্লেখ পাওয়া যায়। ওয়ারেন হেস্টিংস এই স্থানটিকে পূর্বের ব্রাইটন হিসাবে উল্লেখ করেছেন ( ইংল্যান্ডের একটি জনপ্রিয় সমুদ্র তীরবর্তী রিসোর্ট শহর )।
এমন আশ্চর্যজনক অদ্ভুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মোরা এবং চরম সত্য প্রকৃতির কোলে ঢলে পড়া দীঘার মোহনাতে মানুষ যতবার যায়, ঠিক ততবারই প্রথম এবং নুতন লাগে প্রত্যেকের কাছে। এবং ছবি হয়ে থাকে মনের অ্যালবামে।





মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন