এক অভিনব দৃশ্য পুরাতনা উত্তর কলকাতার বাগবাজার হাই স্কুলের সামনে
এক অভিনব দৃশ্য পুরাতনা উত্তর কলকাতার বাগবাজার হাই স্কুলের সামনে:-
সুনন্দা বিশ্বাস:-
হাতে টানা রিকশার ১৩০ বছরের ঐতিহ্য অস্তাচলে ।কলকাতার ঐতিহ্য হাতে টানা রিকশা
গঙ্গার গা ঘেষে জন্ম নেওয়া ৩০০ বছরের পুরনো শহর কলকাতার অনেক কিছুই বদলে গেছে। বদলে গেছে শাসন থেকে প্রশাসন।
তবে আধুনিক কলকাতায় নতুনত্বের ছোঁয়া লাগলেও এখনও বদলায়নি শহরের ঐতিহ্য।
কাউকে যদি একফ্রেমে কলকাতার ছবি আঁকতে বলা হয়, তবে সেই ফ্রেমে যা আসবে তারমধ্যে অন্যতম হাতে টানা কাঠের রিকশা।
ফলে আজও সেই ঐতিহ্যের অংশ হয়ে শহরের বুকে এখনও চলমান হাতে টানা রিকশাগুলো।
ঘণ্টির ঠুং ঠুং শব্দে একটা মানুষ টেনে নিয়ে যাচ্ছে আরেকটা মানুষকে।
পুরনো কলকাতাসহ এ ধরনের রিকশা বেশি দেখা যায় উত্তর ও মধ্য কলকাতার অলিগলি থেকে রাজপথে। এছাড়া দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের দিকে এখনও দেখা যায় হাতে টানা রিকশার চল।
ইতিহাস অনুযায়ী, ষোড়শ শতকের শেষের দিকে জাপানের বিভিন্ন শহরে দেখা যেত এই হাতে টানা কাঠের রিকশা। ১৮৯০ সালে জাপান থেকে জাহাজে করে কলকাতায় প্রথম আসে টানা রিকশা। সেই থেকে মিশে গেছে কলকাতার ঐতিহ্যর সঙ্গে। দেখতে দেখতে পার করে ফেলছে ১৩০ বছরের বেশি সময়। তবে কলকাতায় হাতে টানা রিকশার সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা বাড়ে উনিশ শতকের গোড়ায়। বলা হয়, ১৯ শতকে ব্রিটিশদের সাথে সমানতালে কলকাতাকে শাসন করছে এই হাতে টানা কাঠের রিকশা।
যুগ যুগ ধরে শাসনের বেড়িতে একজন চালক চালিয়ে নিচ্ছে অন্য একজন মানুষকে। রিকশার চাকা গড়াতে প্রথমদিকে শক্তির প্রয়োজন হলেও এরপর লাগে ব্যালেন্স। চাকার সাথে গতির মিল থাকতে হবে পায়ের। হাতল থাকতে হবে কোমর বরাবর। এর বেশি ওপর-নিচ হলে সওয়ারি যাবে পড়ে।
বেশ কয়েকবছর হল টানা রিকশায় লাইসেন্স বাতিল কিন্তু হাতে গোনা কয়েকজন এখনো তাঁদের এতদিনের পেশা এতদিনের সারথি কে ছাড়েন নি। তবে আমরা তাঁদের ভুলে যাচ্ছি। তাঁদের পেটে পড়ছে টান,চোখের জল শুকোচ্ছে।
আর তাই উত্তরীয় পরিয়ে,ফল ,জল কিছু খাবার সম্মাণস্বরূপ দিয়ে তাঁদের কুস্টের কথা তুলে ধরলেন কবি ,সাহিত্যক,গীতিকার,বাচিক শিল্পী ,সমাজকর্মী ঝর্ণা ভট্টাচার্য্য। যেন ওকাল জামাই ষষ্ঠী, তাঁদের কল্যাণে এই পদক্ষেপ , ঝর্ণা বলেন" শুধু ছবি তোলার জন্য নয়,একদিন আলসে বিকেলে কলকাতার অলিগলি ঘুরুন না ওনাদের রিকশায় ,আর দেখবেন ওনাদের মত কলকাতার গলিগুলোর ইতিহাস খুব কম মানুষ জানে। সরকারের কাছে আবেদন জানান যে কটা রিকশা শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় তাঁদের যদি ট্যুরিজমের আওতায় আনা যায় ,তবে কলকাতা তার ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারে।"
তা না হলে হ্য়ত আর কয়েকটা বছর। একজন আরেক জনকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে; এমন দৃশ্য খুব অল্প সময়ই দেখবে শহর কলকাতা। তারপর কালের চাকায় বিলীন হবে টানা রিকশার চাকা। তখন আর কানে বাজবে না ঠুং ঠুং শব্দ। যেমনটা কলকাতা থেকে কয়েক দশক আগে হারিয়ে গেছে ‘হুমনা হুমনা’ শব্দে কাঁধে বয়ে নিয়ে যাওয়া কাঠের পালকি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন